বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জয়পাশা গ্রামে অবস্থিত “জয়পাশা সৈয়দ ফজলুল হক একাডেমির” শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের ও অযথা হয়রানি বন্ধের দাবিতে মঙ্গলবার (২২.০২.২২) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ করেন এবং প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা ও ডহরনগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। জানা যায়, করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২১ সালের ১৭ জুলাই রাতের কোন এক সময় জয়পাশা সৈয়দ ফজলুল হক একাডেমির প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, ৫টি শ্রেণি কক্ষ, করণিকের কক্ষ এবং কম্পিউটার ল্যাবের দরজার তালা ভেঙ্গে ২টি ল্যাপটপ, ২টি মাল্টিমিডিয়িা...
223
বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের জয়পাশা গ্রামে অবস্থিত “জয়পাশা সৈয়দ ফজলুল হক একাডেমির” শিক্ষক কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের ও অযথা হয়রানি বন্ধের
দাবিতে মঙ্গলবার (২২.০২.২২) বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ করেন এবং প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যহত হয়। খবর পেয়ে বোয়ালমারী থানা ও ডহরনগর তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।
জানা যায়, করোনা মহামারীর মধ্যে ২০২১ সালের ১৭ জুলাই রাতের কোন এক সময় জয়পাশা সৈয়দ ফজলুল হক একাডেমির প্রধান শিক্ষকের কক্ষ, শিক্ষক মিলনায়তন, ৫টি শ্রেণি কক্ষ, করণিকের কক্ষ এবং কম্পিউটার ল্যাবের দরজার তালা ভেঙ্গে ২টি ল্যাপটপ, ২টি মাল্টিমিডিয়িা প্রজেক্টর, ১টি প্রিন্টার, ২৪টি সিলিং ফ্যান, ১টি পানির পাম্প, ১টি গ্যাস সিলিন্ডার, ১টি গ্যাসের চুলা এবং ৪ হাজার ২০০ টাকাসহ ২ লাখ ১৪ হাজার ২০০ টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিভাষ চন্দ্র অধিকারী ১৯ জুলাই অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে পেনাল কোডের ৪৫৭/৩৮০ ধারায় থানায় মামলা করেন। মামলা নং ১৩/১১০। ডহরনগর ফাঁড়ি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মো. মোক্তার হোসেন তদন্ত করে ২১ সালের ২২ ডিসেম্বর আদালতে ৪৫৭/৩৮০/৪১১ ধারায় অভিযোগ পত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। অভিযোগ পত্র নং ২১২। অভিযোগ পত্রে বিদ্যালয়ের সিনিয়র শিক্ষক মো. শামছুদ্দিন, অফিস সহকারী জাহিদুল এবং অফিস সহায়ক (দপ্তরী) সৈয়দ দেলোয়ার হোসেনকে আসামি হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়। নৈশ প্রহরী হাসান শেখকে মামলা থেকে অব্যহতি দেয়া হয়। শিক্ষক কর্মচারীদের মামলার আসামি করার পর থেকে শিক্ষক কর্মচারী এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করে। তারই ফলস্বরূপ মঙ্গলবার বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুলের মূল গেটে তালা লাগিয়ে সামনের রাস্তায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভ মিছিলটি জয়পাশা বাজার প্রদক্ষিণ করে বিদ্যালয়ে ফিরে আসে। ইতিমধ্যে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে পৌঁছলে শিক্ষার্থীরা তাকে রুমে অবরুদ্ধ করে স্কুল প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, হয়রানি বন্ধ এবং প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করে। শিক্ষকদের অনুরোধে শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গণ থেকে সরে যায়। খবর পেয়ে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠাকালীন সভাপতি সৈয়দ আব্দুর রহমান বাশার, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুর রউফ সিদ্দিকী, ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম এবং থানা ও ফাঁড়ির পুলিশ উপস্থিত হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
সিনিয়র শিক্ষক মো. শামছুদ্দিন বলেন, বিদ্যালয়ের নৈশ প্রহরী হাসান শেখ দায়িত্ব পালন করে না। একদিনও সে রাতে স্কুল পাহারায় থাকেনা। রাতের বেলায় স্কুল চুরি হলে তার দায়দায়িত্ব নৈশ প্রহরীর। শিক্ষক কর্মচারীদের নয়। হয়রানিমূলকভাবে উদ্দেশ্য প্রনোদিত হয়ে এ মামলায় শিক্ষক কর্মচারীদের নাম জড়ানো হয়েছে।
প্রধান শিক্ষক বিভাষ চন্দ্র অধিকারী বলেন, স্কুলের মালামাল চুরি হওয়ার ঘটনায় তিনি অজ্ঞাত ব্যক্তিদের নামে মামলা করেছেন। পুলিশ তদন্ত করে অভিযোগ পত্রে শিক্ষক কর্মচারীদের নাম দিয়েছেন। এখানে প্রধান শিক্ষকের কোন ভূমিকা নেই। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক তিনি মামলার বাদি হয়েছেন।
মামলার অভিযোগ পত্র দাখিলকারী ডহরনগর ফাঁড়ি ইনচার্জ পরিদর্শক মো. মোক্তার হোসেন বলেন, তদন্তে যাদের নাম পাওয়া গিয়েছে তাদের নামই অভিযোগ পত্রে দেয়া হয়েছে। অফিস সহায়ক দেলোয়ারের হোসেনের ঘটনাস্থলের পায়ের চিহ্ন সিআইডির ফরেনসিক পরীক্ষায় মিলে গেছে। কারও নামই হয়রানীমূলকভাবে দেয়া হয়নি। তবে এখানে বিবদমান দুটি পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব আছে। সেই দ্বন্দ্বের ফলেই এ সকল ঘটনা ঘটতে পারে।
বিদ্যালয় পরিচালনা (এডহক) কমিটির সভাপতি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সৈয়দ রাসেল রেজা বলেন, তিনি ২০.০২.২২ রোববার এডহক কমিটির সভাপতির চিঠি পেয়েছেন। তাই সকল বিষয় অবগত নন। তবে তিতি দ্রুতই সবাইকে নিয়ে বসে দ্বন্দ্ব সংঘাতসহ সকল বিষয় নিরশনের চেষ্টা করবেন। তিনি বলেন, স্কুলের শিক্ষক কর্মচারীদের নামে মামলা যেমন দুঃখজনক তেমনি প্রধান শিক্ষককে অবরুদ্ধ বা অপমান করাও নিন্দনীয়।