1. almoazzintv@gmail.com : Moniruzzaman Monnu : Moniruzzaman Monnu
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:০১ পূর্বাহ্ন

মধুমতির গর্ভে বসতবাড়ি, এখন আমরা যাব কই!

মো. সহিদুল ইসলাম
  • Update Time : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৪৬৫ Time View
194

মো. সহিদুল ইসলাম :
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের মধুমতি নদীর পানির টানে ভাঙনের তীব্রতাও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এরই মধ্যে সালামতপুর, দয়ারামপুর, নাওড়াপাড়া, গন্ধখালী ,ফুলবাড়ী গ্রামগুলোও নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। প্রতিদিনই ভাঙছে নদীর পাড়। এতে করে নদী গর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতবাড়ি, গাছপালা ও শত শত একর ফসলি জমি। ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে মধুমতি পাড়ের মানুষের। কেউ কেউ ঘর ও মালামাল সরিয়ে নিয়েছে । জমি ও বসতভিটা হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে অনেকে। আমরা দরিদ্র কৃষক পরিবার। এবারও ভাঙনে আমাদের বসতবাড়ি ও গাছপালা নদীগর্ভে চলে গেছে। দূরে কোথাও নতুন করে বাড়িঘর তোলার সামর্থ নেই, এখন কোথায় যাব আমরা।এভাবেই কষ্টের কথাগুলো বলেছেন নাজমুন্নাহার বেগম নামে এক অসহায় মানুষ। তিনি উপজেলা কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর বর্তমান রঊফনগর গ্রামের সফিয়ার রহমান মৃধার স্ত্রী। শুধু নাজমুন্নাহার বেগম নয়; তার মত একাধিকবার বাড়িঘর সরিয়েও মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকুও রক্ষা করতে পারছেন না অনেকে। সরেজমিনে নদী ভাঙন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বসতভিটা ও গাছপালা মধুমতির গর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ভাঙনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রæত ঘরসহ প্রয়োজনীয় মালামাল অন্যত্র সরিয়ে নিয়েছেন। বিক্রি করে দিয়েছেন গাছপালা। চোখের সামনে ভিটেবাড়ি মধুমতিতে বিলীন হয়ে যেতে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন নদী পাড়ের মানুষ। উপজেলার সালামতপুর গ্রামের মরহুম বীরমুক্তিযোদ্ধা ইয়াসিন শেখ এর বাড়ীর সামনে থেকে সালামত পুর সফিয়ার মৃধা’র বাড়ী ঘেষে মাঠের কৃষি জমি মধুমতির ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাই নদীর তীরবর্তী বসবাসকারী মানুষের মধ্যে বিরাজ করছে চরম আতঙ্ক। এসব মানুষের দাবি বর্ষা মৌসুমে নদী ভাঙন রোধ না করা গেলে মধুমতি নদীতে সব বিলীন হয়ে যাবে। মধুমতি নদী ভাঙনের মুখে রয়েছে মসজিদ,মাদ্রাসা ঈদগাহ, স্কুল, বাজার, মন্দির ও দোকান-পাট সহ হাজার হাজার একর ফসলি জমি। এতে বাড়ছে ভূমিহীনের সংখ্যাও। তাই তাদের দাবি স্থায়ী বাঁধের। স্থানীয় জন প্রতিনিধি (মেম্বর) আশরাফ মোল্যা বলেন, আমরা গ্রামের মানুষ। কৃষিকাজ করে আমাদের সংসার চলে। নদী ভাঙনে বসতভিটা বিলীন হয়ে গেলে আমরা কোথায় গিয়ে থাকবো? শুধু এই এলাকার আরও অনেক বসতভিটা ঝুঁকিতে রয়েছে। তাই নদী শাসনে স্থায়ী বাঁধ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি কামনা করছি। সালামতপুর বর্তমান রউফনগর গ্রামের বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসমা বেগম বলেন, অনেক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি মধুমতি নদী ভাঙনের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে, অনেক পরিবার বাড়িঘর সরিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। তাই নদীপাড়ের অসহায় পরিবারের কথা ভেবে ভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের ব্যবস্থা করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ- প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন কামারখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের নদী ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেছি। অফিসকে অবগত করা হয়েছে খুব দ্রæত ভাঙন কবলিত এলাকায় কাজ করা হবে ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category