নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষের ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। আরো তিনজন গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শুক্রবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা ৭টার দিকে উপজেলার নজিপুর-ধামইরহাট সড়কের আমবাটি মোড় এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।দুর্ঘটনায় অটোভ্যানে থাকা সানজিদা খাতুন নামের একজনকে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত ঘোষণা করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সানজিদার মা শরিফা খাতুনসহ দুজনের মৃত্যু হয়। শুক্রবার দিবাগত রাতে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শরিফা খাতুন এবং অটোভ্যানচালক উপজেলার আমিনাবাদ গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে মিজানুর রহমানের মৃত্যু হয়।রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুরুতর আহতরা হলেন- নিহত সানজিদার ছেলে সোহান, নিহত শরিফা খাতুনের ছেলে শামীম রেজা ও মহাদেবপুর উপজেলার নানুপাড়া গ্রামের আরিফুজ্জামান। প্রত্যক্ষদর্শী ও পত্নীতলা থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সানজিদাসহ একই পরিবারের কয়েকজন নারী-পুরুষ ব্যাটারিচালিত অটোভ্যানযোগে নজিপুর থেকে নিজ বাড়ি পাহাড়কাটা যাচ্ছিলেন। ভ্যানটি আমবাটি মোড়ে পৌঁছলে ধামইরহাট থেকে নজিপুরগামী একটি বাসের সঙ্গে ভ্যানটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় পাহাড়কাটা গ্রামের মৃত আমজাদ হোসেনের স্ত্রী শরিফা খাতুন (৪৫), শরীফার ছেলে শামীম রেজা (১৮), ছেলের বউ সানজিদা খাতুন (২৬), নাতি সোহান (৫), আমিনাবাদ গ্রামের মৃত ফয়েজ উদ্দীনের ছেলে ভ্যানচালক মো. মিজানুর রহমান (৪৫) গুরুতর আহত হন।
থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে পত্নীতলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সানজিদাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর ছয়জনের অবস্থাও গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়।
পত্নীতলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) পলাশ চন্দ্র দেব বলেন, এ ঘটনায় প্রথমে একজনের মৃত্যু হয়। রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়। ঘাতক বাসটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও চালকের সহকারী পলাতক থাকায় তাদের গ্রেপ্তার করা যায়নি।