মতিয়ার রহমান মিঞা,মধুখালী(ফরিদপুর) প্রতিনিধি
জাতীয় সংসদ বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন প্রার্থীর ব্যয়সীমা নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকছে না। তফসীল প্রচার হতে শুরু করে ভোট গ্রহণের দিন সময়ে যে ব্যয় হওয়ার নিয়ম রয়েছে তার থেকে ৩/৪ গুণ বেশি ব্যয় হওয়ার নজির রয়েছে। প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ব্যয়ের মধ্যে থাকতে গেলে অনেক ভোটার বিমুখ হয়ে যায়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) ৪৪ (খ) অনুযায়ী চলতি ঘোষিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসীলে ফরিদপুর-১ আসনে প্রার্থীদের ব্যয়সীমা নির্ধারন করা হয়েছে ২৫ লক্ষ টাকা।
ফরিদপুর-১ আসনে যে সংখ্যক ভোটার রয়েছে সেই অনুপাতে বড় পোস্টার ছাপাতে হলে কমপক্ষে ২ লক্ষ পোষ্টার ছাপানো উচিৎ। প্রতি পিচ পোষ্টারে ৫ টাকা খরচ হলে এখাতে ১০ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়। ২ লক্ষ লিপলেট ছাপানো হলে তাতে ২ লক্ষ টাকা খরচ হয়। এছাড়া প্রচার কাজে মাইকিং,ব্যানার বাবাদ প্রায় ১০ লক্ষ টাকা। বিশেষ করে নির্বাচনী কাজের বড় একটি খরচ হয় যানবাহন,পথসভা ও কর্মীদের ব্যয় বাবদ। এতে প্রায় ১ কোটি টাকার কাছাকাছি ব্যয় হয়।
তবে বিভিন্ন সূত্রের দাবি, ফরিদপুর-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঠিকমতো পরিচালনা করতে ৫ থেকে ১০ কোটি টাকার প্রয়োজন ।নির্বাচনী ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নির্বাচনের ব্যয় ভাউচার রিটার্ণিং কর্মকর্তার নিকট জমা দেওয়ার বিধান রয়েছে। এছাড়া কেনো প্রার্থী নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন কমিশনে জমা না দিলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে।
ফরিদপুর-১ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. আকতারুজাজামান খান জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে প্রার্থীদের থাকা উচিৎ। বিভিন্ন খাতের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় নির্বাচনের ব্যয় বৃদ্ধি পায়।
ফরিদপুর-১ আসনের বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের প্রার্থী মোঃ আব্দুর রহমান জানান, নির্বাচনে ব্যয়ের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ব্যয়সীমার মধ্যে থাকার চেষ্টা করব ইনশাল্লাহ।
মধুখালী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মঞ্জুরুল আলম বলেন, ভোটার প্রতি ১০ টাকা খরচের নিয়ম আছে তবে তবে ২৫ লক্ষ টাকার বেশি কোন প্রার্থী খরচ করতে পারবে না। কিন্তু ফরিদপুর-১ আসন তথা মধুখালী,বোয়ালমারী,আলফাডাঙ্গা তিন উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লক্ষ ৭৭ হাজার ৯শত ৮১ জন। সেই হিসেবে ৪৭ লক্ষ টাকা খরচ আসে। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের পরিপত্র অনুযায়ী ২৫ লক্ষ টাকার বেশি ব্যয় করা যাবে না।
ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাড.মানিক মজুমদার জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ব্যয়সীমা লঙ্ঘন করা নির্বাচন আচরনবিধি ভঙ্গের সামিল। তাই প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয় নিয়মের মধ্যে রাখা উচিৎ। ভোট পাওয়ার জন্য টাকা ব্যয় করা বা বিনিয়োগ করা অন্যায় এবং বে-আইনি। এটি করা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য অশুভ কাজ।
মধুখালী প্রেসক্লাবের সভাপতি রেজাউল হক বকু বলেন, নির্বাচন কমিশনের ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের সচেতন হতে হবে। নৈতিকতার জায়গা হতে সকলকে এ বিষয়ে এগিয়ে আসতে হবে।ফরিদপুর-১ আসনে সকল প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ব্যয়সীমার মধ্যে থাকার আহবান জানাই।
নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একাধিক ভোটার জানান, ফরিদপুর-১ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন করতে প্রায় ১০ কোটি টাকা খরচের নজির রয়েছে। এমনও শোনা গেছে, ইতিপূর্বে কোন কোন জাতীয় সংসদ সদস্য প্রার্থীর শুধু নির্বাচনের দিনই খরচ হয়েছে প্রায় ৪ কোটি টাকা।
মধুখালী উপজেলা পাবলিক লাইব্রেরীর সাধারন সম্পাদক ও সংবাদকর্মী শাহা মো. ফারুক হোসেন জানান, ফরিদপুর-১ আসনটি একটি বড় নির্বাচনী এলাকা। অনেক কিছুর দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় তিনটি উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে নির্বাচনী অনেক টাকা ব্যয় হয়ে যায়।
মধুখালী ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক আবু সাঈদ মিয়া জানান, নৈতিকতার জায়গায় সকলকে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া উচিৎ। অবশ্যই নির্বাচন কমিশনের নিয়মের মধ্যে থেকে নির্বাচন করা উচিৎ।
এ এলাকার সুধিমহলের মতে, নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত ব্যয় নিয়মের মধ্যে রাখতে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা থাকা উচিৎ।