ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের মধুখালীতে অবস্থিত দেশের দক্ষিণ—পঞ্চিমাঞ্চলের একমাত্র ভারী শিল্প প্রতিষ্ঠান ফরিদপুর চিনিকলের বিষাক্ত বর্জ্যে অব্যাহতভাবে দূষিত হচ্ছে মধুখালী উপজেলার চন্দনা ও বারাশিয়া নদী। চিনিকলের বর্জ্যে দূষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় এবং আশেপাশের বিভিন্ন খাল ও জলাশয়ে এই বিষাক্ত বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকার জীব বৈচিত্রের উপর ক্ষতিক্ষর প্রভাব পড়ছে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।
ফরিদপুর চিনিকলের তরল বর্জ্য পদার্থ শোধন করার লক্ষে বর্জ্য শোধনাগার (ইটিপি) নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য করপোরেশন (বিএসএফআইসি)। কিন্তু চিনিকলটিতে চলতি মৌসুমে আখ মাড়াই চললেও শোধনাগারটি চালু থাকলেও তার কোন কার্যকরিতা দৃশ্যমান নয়। ফলে পরিবেশ দূষণ রক্ষায় কোনো কাজে আসছে না কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত শোধনাগারটি; নিশ্চিত হচ্ছে না পরিবেশের সুরক্ষা।
সরেজমিনে দেখা যায় চিনিকলটির অভ্যন্তরে বিভিন্ন জলাশয়ের রঙ বদলে গেছে ও বিষাক্ত গন্ধ ছড়াচ্ছে। কারণ পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেনের পরিমাণ কমে গেছে। ফলে শামুক, কুচে, ও জলজ জীবটিকে থাকার সামগ্রিক পরিবেশ হারাচ্ছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা সুইপার কলোনি ও এর আশেপাশের অঞ্চলে; পুরো সুইপার কলোনি ভাসছে চিনিকলের বিষক্ত বর্জে্যর উপর। দুর্গন্ধের সাথে পাল্লা দিয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে মশা—মাছির উপদ্রব। স্থানীয় কুলসুম বেগম (৬০) ও আলেক প্রমানিক (৫৮) বক্তব্য মতে বসবাস করতে করতে দুর্গন্ধ কিছুটা সহ্য হয়ে গেলেও মশা—মাছির কারণে তার অতিষ্ঠ।
সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মামনুন আহমেদ অনীক বলেন, পনেরো দিন আগে সমস্যা সংশ্লিষ্ট বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ বরাবর রিপোর্ট করেছি। সেখানে দূষিত পানির চেয়েও ভয়াবহ চিনিকলের নির্গত ছাই সম্পর্কেও বিস্তারিত বলেছি।
ফরিদপুর চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ইটিপি কার্যকর থাকায় দূষিত বর্জ্য পরিবেশে তেমন কোন প্রভাব ফেলতে পারবে না।
বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, মৎস্য আইন ও জাতীয় পানি নীতি অনুসারে নদীসহ প্রবাহমান জলাভূমি দূষণ আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু এই আইনের যে কেউ তোয়াক্কা করছে না, তা তো বোঝাই যাচ্ছে।