1. almoazzintv@gmail.com : Moniruzzaman Monnu : Moniruzzaman Monnu
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৬:১৬ পূর্বাহ্ন

প্রকাশ্যে দিন দুপুরে মুক্তিযোদ্ধার জায়গা দখল করে নিলো প্রভাবশালী

Reporter Name
  • Update Time : শনিবার, ১৬ মার্চ, ২০২৪
  • ৪৬৩ Time View
208

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ফরিদপুরের মধুখালীতে প্রকাশ্যে দিন দুপুরে এক মুক্তিযোদ্ধার জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মান করেছে স্থানীয় প্রভাবশালী। এঘটনায় ওই মুক্তিযোদ্ধার পুত্র ইউএনও ও ওসি’র নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। প্রকাশ্যে দখলের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

জানা যায়, মধুখালী উপজেলার কামারখালী বাজারের বাসিন্দা মৃত মুক্তিযোদ্ধা দ্বিজেন্দ্রনাথ সাহা। তিনি কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগ নেতা ছিলেন। ২০০২ সালে মারা যান তিনি। মৃত্যুর আগে তার নিজ নামে কামারখালী বাজারে ১৫ শতাংশ জমি রেখে যান। ওই জমিটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে ছিল।

কিছুদিন আগে তার স্ত্রীও মারা যান। একমাত্র সন্তান সোলার সাহা চাকুরীর কারনে চট্টগ্রামে থাকেন। শুক্রবার (১৫ মার্চ) সকালে হঠাত করেই আড়পাড়া গ্রামের বাসিন্দা স্থানীয় প্রভাবশালী খলিল শেখ ও তার লোকজন ওই জায়গায় টিনশেড ঘর তুলেন এবং বেড়া দিয়ে দখল করে নেন।

মুক্তিযোদ্ধার ছেলে সোলার সাহা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে এসে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তার সাথে খারাপ ব্যবহার করে হুমকি ধামকি দিয়ে ওই স্থান থেকে সড়িয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে সোলার সাহা মধুখালী থানায় জানালে পুলিশ এসে নির্মান কাজ বন্ধ করে দেয়।

মুক্তিযোদ্ধা পুত্র সোলার সাহা জানান, বাবা-মা মারা যাওয়ার পর বাড়িতে কেউই থাকেনা। আমি চাকুরীর সুবাদে চট্টগ্রামে থাকি। শুক্রবার সকালে বাড়িতে বেড়াতে আসি। কিছু সময় পরই সংবাদ পাই আমাদের জায়গায় খলিল শেখের নেতৃত্বে কয়েশ শত লোক এসে জায়গা দখল করে টিনশেড ঘর উত্তোলন করছে।

তিনি আরো জানান, দ্রুত ওই স্থানে গিয়ে নির্মানকাজ বন্ধ করতে গেলে আমাকে হুমকি ধামকি দিয়ে সড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে থানায় ফোন দিলে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে। পরবর্তীতে পুলিশ চলে গেলে পুনরায় তারা আবার কাজ শুরু করে। পরে আবার পুলিশ আসলে তারা চলে যায়। এঘটনায় আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছি।

কামারখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান চৌধুরী টারগেট জানান, আমরা সকলেই জানি এই জায়গাটা মুক্তিযোদ্ধা দ্বিজেন্দ্রনাথ সাহার। তিনি মারা যাওয়ার পর জায়গাটা পরিত্যাক্ত অবস্থায় রয়েছে। তার পরিবারের সদস্যরাও বাহিরে থাকে।

তিনি আরো জানান, শুক্রবার সকালে শুনতে পাই জায়গাটি দখল করছে খলিল শেখ ও তার লোকজন। ওই মুহুর্তেই আমি সেখানে যাই, গিয়ে দেখি দখলের মহোউতসব চলছে। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করি, কিন্তু তারা কোনো কথাই শুনেনি। আমার সাথে তাদের কথা কাটাকাটিও হয়। একজন মুক্তিযোদ্ধার জায়গা এভাবে প্রকাশ্যে দখল করে নিবে এটা মেনে নেওয়া খুবই কষ্টকর। এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

কামারখালী বাজার বনিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম মন্ডল বলেন, মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল করে নিচ্ছে এমন খবর পাই। পরে মুক্তিযোদ্ধার ছেলেকে থানায় ফোন দিতে বলি। পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করে। প্রকাশ্যে এমন বিষয় খুবই দু:খজনক।

কামারখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: রাকিব হোসেন চৌধুরী ইরান বলেন, মুক্তিযোদ্ধার জমি জোড়পূর্বক দখল করা হয়েছে। প্রকাশ্যে যেভাবে খলিল শেখ জমি দখল করে নিয়েছে তা খুবই দু:খজনক।

তিনি আরো জানান, স্থানীয় একটি মহল বিভিন্ন মানুষের জমি দখলের সাথে জড়িত। এর আগেও একাধিক সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের ঘটনা ঘটেছে। কিছু উদ্ধার করতে পেরেছি, কিছু পারিনি। জমি দখলের ঘটনা অহরহ ঘটছে, এবিষয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো: মিরাজ হোসেন জানান, সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। নির্মান কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এবিষয়ে মুক্তিযোদ্ধা পুত্র সোলার সাহা অভিযোগ দিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

জমি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে খলিল শেখ বলেন, মুক্তিযোদ্ধার কোনো জায়গা আমি দখল করিনি। আমার ক্রয়কৃত জায়গায়ই আমি স্থাপনা নির্মান করেছি।

প্রকাশ্যে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলের এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুতই স্থাপনা অপসারন করে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখলমুক্ত করার আহবান জানিয়েছেন প্রশাসনের প্রতি স্থানীয় এলাকাবাসী।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category