মধুখালী(ফরিদপুর)প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের মধুখালীতে উপজেলার নওপাড়া ইউনিয়নের ছোন্দাহ গ্রামে অবস্থিত ফাতেমা ত ুজহুরা মহিলা মাদ্রাসার মক্তব বিভাগের এক শিক্ষার্থী(১১)কে ধর্ষন চেষ্টার অভিযোগ মধুখালী থানায় মামলা হয়েছে ওই মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতার পিতার বিরুদ্ধে।
অপর দিকে ভূক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ নওপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান টিপু ঘটনার পর থেকে শালিস বৈঠকের নামে সময় ক্ষেপণ করে অপরাধীকে বাঁচাতে এবং ঘটনাটিকে ধামাচাপা দিতে চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে অনুসন্ধান ও মামলা সূত্রে জানা যায় ২৭ জুন ২০২৪খ্রিঃ বৃহস্পতিবার রাত অনুমান ১টার দিকে উক্ত মাদ্রসার প্রতিষ্ঠাতা ও কর্মরত শিক্ষক মো.ইমদাদের পিতা সাহেদ আলী মৃধা(৭০) ছাত্রীদের শয়ন কক্ষে প্রবেশ করে ভিকটিমকে ঘুম থেকে তুলে টেনে হিঁচড়ে পাশের রান্না ঘরে নিয়ে এবং তার ইচ্ছের বিরুদ্ধে বিবস্ত্র করে শীলতাহানী ঘটায়। যা ধর্ষণ চেষ্টা বলে পরিগণিত হয়।
এদিকে এই অপরাধকে ধামাচাপা দিতে প্রথম থেকে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান টিপুর নেতৃত্বে একটি প্রভাবশালী মহল সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। যার ধারাবাহিকতা ৬ জুলাই শনিবার সকাল ৭টায় স্থানীয় ৮নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য আজমীর মৃধাকে সাথে নিয়ে চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান ভিকটিমের বাড়ীতে প্রবেশ করেন এবং জোর পূর্বক মিমাংসার নামে ৩০ হাজার টাকা প্রদান করে এই ঘটনা নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে নিষেধ করেন। বেশি বাড়াবাড়ি করলে তার পরিণতি খুব খারাপ হবে মর্মে তিনি সাবধান করেন। ভিকটিমের পরিবার এই প্রতিবেদকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, প্রভাবশালী মহলের কারণে আমরা অভিযোগ দায়ের করতে পারছি না। ভীতসন্ত্রস্ত পরিবারটি আইন শৃংখলা বাহিনীর সহযোগীতায় সুবিচার প্রার্থনা করেন। পরবর্তীতে রবিবার(৭জুলাই) রাতে ভুক্তভোগি পরিবারের পক্ষে ওই ছাত্রীর মা বাদী হয়ে ধর্ষন চেষ্টাকারী সাহেদ আলী মৃধাকে আসামী করে মধুখালী থানায় মামলা করতে সক্ষম হয়। মধুখালী থানার মামলা নং ৯। তারিখ ৭ জুলাই ২০২৪।
ঘটনার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুল হাসান টিপুর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল ফোনে বারবার ফোন করে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করে এক পর্যায়ে দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ করে রাখেন।
পিতার ধর্ষন চেষ্টার বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠান প্রধান মো.ইমদাদ এং সাহেদ আলী মৃধার বড় ছেলে মোঃ ইমরান মৃধার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তারা বলেন বিষয়টি তাদের সাথে মিমাংসা করা হয়েছে আমাদের আর কিছুই বলার নাই।
মামলার বিষয়ে মধুখালী থানার অফিসার্স ইনচার্জ মোঃ মিরাজ হোসেনকে তার মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি জানান মামলা হয়েছে । জানাজানি হওয়ায় আসামী গা ঢাকা দিয়েছেন। গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।