মো. সহিদুল ইসলাম ঃ
ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়েনের মধুমতি নদীতে তীব্র ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ৪ মাসে পশ্চিম সালামতপুর গ্রামের ৭টি পরিবারের বসতবাড়ি, রাস্তাঘাট সহ আরও ১৫টি পরিবার ঝুঁকিতে ভাঙ্গন ঝুকিতে রয়েছে। ভাঙ্গনে কমপক্ষে দশ একর ফসলি জমি নদীতে হয়ে গেছে।
সালামতপুর ও দয়ারামপুর গ্রামের মানুষের কৃষি জমি ভেঙ্গে যাচ্ছে চোখের পলকে। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে সালামতপুর গ্রামের নদীর পশ্চিম—উত্তর পাড়ের ২২টি পরিবার সহ পাশের অনেকেই। তবে ভাঙ্গন রোধে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।
মঙ্গলবার ভাঙ্গন কবলিত এলাকা ঘুরে দেখাা যায়, মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের পশ্চিম সালামতপুর ও পূর্ব সালামতপুর গ্রামে ভাঙ্গন অব্যাহত রয়েছে। গত ৪ মাস যাবত মধুমতি নদীর পশ্চিম ও পূর্ব পাড়ে ভাঙনে প্রতিদিনই বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, রাস্তাঘাট ও একরের পর একর ফসলি জমি। যে সব বসতবাড়ি তীব্র ভাঙ্গন ঝুঁকিতে রয়েছে তারা ভাঙন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছে।

Exif_JPEG_420
নদীতে ফসলি জমি বিলীন হওয়া সালামতপুর গ্রামের কৃষক ইসহাক আলী মোল্যা বলেন, গত কয়েকদিনে এ গ্রামে ঘরবাড়ি নদীতে যাওয়ার আশাংক্ষা আর প্রায় দশ একর ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। আমার নিজের ফসলি জমি বিলীন হয়ে আমি অসহায় হয়ে পড়েছি। এখানে কিছু বালির বস্তা দিলে আপাতত ভাঙ্গন রোধ করা যেত । সরকারের কাছে স্থায়ী বাধের দাবি জানান এ কৃষক। মধুমতি নদীর ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্থ পশ্চিম সালামতপুর গ্রামের ফারুক মোল্যা বলেন, আমাদের বাড়ী এবার নদীর ভাঙ্গনে গেলে আর আমাদের বাড়ী করা হবে না । গাছপালা নদীতে চলে গেছে। বলতে বলতে আর বলার জায়গা নাই। আমাদের মত গরীবের খবর কেহ রাখে না । আপনাদের মাধ্যমে সরকারকে কষ্টের কথা জানালাম। অপর দিকে মুরাদ হোসেন বলেন, নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। সব সময় আতঙ্কে থাকি কোন সময় ঘর ভেঙ্গে যায়। স্থায়ী বাঁধের জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। কারন সালামতপুর পূর্ব ও মধ্য পাড়া সালামত পুর স্থায়ী বাধের কাজ চলছে আর পশ্চিম দিকে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। সরকার বাহাদুরের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি নদীতে স্থায়ী বাঁধ দিয়ে এগুলো রক্ষা করতে।
এ ব্যাপারে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডে উপ—বিভাগীয় প্রকৌশলী সন্তোষ কর্মকার বলেন আমরা উধ্বর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়েছি অচিরেই বাধের কাজ হবে।