বিশেষ প্রতিনিধি:
ফরিদপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ অভিযান চালিয়ে দেশব্যাপী ডাকাত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। উদ্ধার করা হয়েছে একটি একটি ইয়ামাহা মোটরসাইকেল। গ্রেফতারকৃত তিন আসামির বিরুদ্ধেই দেশের বিভিন্ন থানায় ডজনখানেক মামলার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। এরা বিভিন্ন বাহিনীর পরিচয় দিয়ে দেশ ব্যাপী ডাকাতি এবং ছিনতাই এর সাথে জড়িত ছিল। এদের মধ্যে দুই জন সেনাবাহিনী ও পুলিশের চাকরিচ্যুত সদস্য। গতরাতে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, ব্যাটারিচালিত একটি নতুন ইজিবাইক ভাড়া নেওয়ার ছলে ডিবি পুলিশের ভুয়া পরিচয় দিয়ে জোরপূর্বক ছিনতাই করে একটি চক্র। এ ঘটনায় ফরিদপুর ডিবি পুলিশ অভিযান চালিয়ে চক্রের অন্যতম মূল হোতা পুলিশের চাকরিচ্যুত মো. লিমন মিয়া (৩৪) এবং তার সহযোগী মো. সাখাওয়াত মুন্সি ওরফে সাকাকে (৩৬) গ্রেফতার করে। লিমনের বাড়ি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার নান্দাহা গ্রামে এবং সাকার বাড়ি একই থানার কান্দাপাড়া গ্রামে।
জিজ্ঞাসাবাদে লিমন স্বীকার করেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে ডিবি পুলিশ সেজে ও নানা কৌশলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইজিবাইক চুরি ও ছিনতাই করে মুকসুদপুরের জনৈক মন্টু মিয়ার কাছে বিক্রি করে আসছিল। সিডিএমএস রেকর্ড অনুযায়ী, লিমনের বিরুদ্ধে ফরিদপুরের কোতোয়ালী ও বোয়ালমারী, রাজবাড়ীর পাংশা, মাদারীপুর সদর এবং ডিএমপির শ্যামপুর থানাসহ বিভিন্ন থানায় কমপক্ষে ১১টি চুরি, ছিনতাই, অস্ত্র ও মাদক মামলা রয়েছে।
ওই ঘটনার সূত্র ধরে ডিবি পুলিশের একটি দল ফরিদপুর শহরের রঘুন্দনপুর এলাকায় অভিযান চালায়। সেখান থেকে সেনাবাহিনীর চাকরিচ্যুত মো. ইমদাদুল হক ওরফে জাহাঙ্গীর (৫৫) নামের এক ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়। জাহাঙ্গীর খুলনার লবনচরা থানার বাসিন্দা এবং বর্তমানে রঘুন্দনপুরের মাজেদ মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া। তিনি সেনাবাহিনীর সাবেক চাকরিচ্যুত সদস্য ছিল বলে জানা গেছে। এসময় তার হেফাজত থেকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার ডাকাতির ইয়ামাহা (YAMAHA 150cc) মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। তারা সেখান থেকে নগদ ২৪ লক্ষ টাকা সহ ৬৪ লক্ষ টাকার মালামাল ডাকাতি করে বলে স্বীকার করে। জাহাঙ্গীর আরো স্বীকার করেছে যে, সে ও তার সহযোগীরা দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ডাকাতি, মোটরসাইকেল চুরি করে ফরিদপুরসহ আশপাশের জেলায় বিক্রি করে আসছিল। সিডিএমএস যাচাই করে তার বিরুদ্ধে ডিএমপির শ্যামপুর, গেন্ডারিয়া এবং রাজবাড়ী সদর ও পাংশা থানায় কমপক্ষে ৫টি মামলার সন্ধান পাওয়া গেছে, যার মধ্যে বিস্ফোরক আইনের মামলাও রয়েছে।
ফরিদপুরের পুলিশ সুপার মোঃ শাহারিয়ার মোহাম্মদ মিয়াজী জানিয়েছেন, এই চক্রের সঙ্গে বড় ধরনের অপরাধী নেটওয়ার্ক জড়িত। গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করে তদন্তের স্বার্থে এবং চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেফতার ও অন্যান্য চোরাই মালামাল উদ্ধারের উদ্দেশ্যে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে।