বেনাপোল প্রতিনিধি
যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশের দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের ১০১ কিলোমিটার সীমান্ত বেনাপোল দিয়ে বিজিবির কড়া পাহাড়ার মধ্যেও রুট ও কৌশল পরিবর্তন করে ভারতে স্বর্ণ পাচার করছে চোরাকারবারিরা। প্রতিনিয়ত বিজিবির হাতে স্বর্ণ ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিরা আটক হলেও থেমে নেই তাদের স্বর্ণ চোরাচালান।
পুজার সময় পাশের দেশ ভারতে স্বর্ণের ডিমান্ড ও চাহিদা বেশি থাকায় সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণের চালান বেশি পাচার হয়ে থাকে। গত ০৬ মাসে যশোরের শার্শা ও বেনাপোল সীমান্ত থেকে প্রায় ১৬ কোটি টাকার স¦র্ণসহ ১২ জন স্বর্ণ পাচারকারীকে আটক করেছে খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের সদস্যরা।
শার্শা ও বেনাপোলের রুদ্রপুর, গোগা, পুটখালী, কায়বা, অগ্রভুলাট, পাঁচভুলাট, সাদীপুর, রঘুনাথপুর, ঘিবা, শিকারপুর, শ্যালকোণা আন্দোলিয়া এসব সীমান্ত রুট আকারে ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে পাচারকারীরা বেশীর ভাগ স্বর্ণ ভারতে পাচার করে থাকে।
গত ছয় মাসে খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের দায়িত্বাধীন ৩১ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকা হতে ১০টি স্বর্ণের চালান আটক করা হয়। এসময় ১২ জন আসামীসহ সর্বমোট ১৯ কেজি ২২৬ গ্রাম স্বর্ণ আটক করা হয়েছে। যার আনুমানিক সিজার মূল্য প্রায় ১৬ কোটি। গত ০৮ চালানের মধ্যে আগস্ট মাসেই ০৪টি ও সেপ্টেম্বর মাসে ০৪টি স্বর্ণের চালান আটক করা হয়েছে।
এছাড়া ফেব্রুয়ারী মাসে ০১টি ও এপ্রিল মাসে ০১টি স্বর্ণের চালান আটক করা হয়। গডফাদাররা যেসময়ে যে সরকার থাকে তারা সেসময়ে সরকারী ছত্রছায়ায় ও ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় পাচারকারীরা আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে এসে স্বর্ণ চোরাচালান করে। স্বর্ণ চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ব্যাটালিয়ন এবং পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।
খুলনা ২১ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে, কর্ণেল মোহাম্মদ তানভীর রহমান (পিএসসি) বলেন, বিজিবি মহাপরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী সীমান্ত দিয়ে স্বর্ণ চোরাচালান রোধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা করা হয়েছে। আটক ১২ জনের মধ্যে ১১ জন স্বর্ণ পাচারকারী এবং ০১ জন স্বর্ণ ব্যবসায়ী। গডফাদারসহ পাচারকারীদের আটক করতে সীমান্তে অতিরিক্ত টহল ও বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
আশা করছি অতি দ্রুত সীমান্ত দিয়ে চোরাচালান শুন্যেও কোঠায় নামিয়ে আনবো। চোরাচালান রোধে আরও কিছু বিজিবি পোস্ট নির্মান করা হবে এবং পোস্টে নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর জন্যই একের পর এক স্বর্ণের চালান সীমান্ত থেকে আটক করা সম্ভব হয়েছে। আর এই অভিযান অব্যাহত থাকবে।