1. almoazzintv@gmail.com : Moniruzzaman Monnu : Moniruzzaman Monnu
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন

পানিভর্তি বালতিতে ৪৯ দিনের শিশুর মরদেহ

Reporter Name
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ১৮ জানুয়ারী, ২০২৪
  • ৪৯৮ Time View
217

বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

বয়স মাত্র ৪৯ দিন। এ বয়সে হাঁটতে পারার কথা নয়। এমনকি উপুড় হওয়া বা হামাগুড়ি দেওয়াও সম্ভব নয়। কিন্তু বসতঘর থেকে বেশ খানিকটা দূরে পানিভর্তি বালতির ভেতরে মিলল শিশুটির মরদেহ। এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে সবার মনে। পুলিশও বলছে, এটি নিশ্চয়ই হত্যাকাণ্ড। অপরাধী পার পাবে না।

ঘটনাটি ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার। গত মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে বাড়ির টিউবওয়েলের পাশে রাখা বালতি থেকে শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। তার নাম সাদি। সে উপজেলার ঘোষপুর ইউনিয়নের চরঘোষপুর গ্রামের মামুন মোল্যার ছেলে। মামুন ঢাকায় পোশাক খারখানায় চাকরি করেন। মা ও দাদা-দাদির কাছে থাকত সাদি।

পরিবারের লোকজন প্রশাসনকে না জানিয়ে মঙ্গলবার রাতেই শিশুটির দাফন সম্পন্ন করে। খবর পেয়ে এএসপি সার্কেল ও বোয়ারমারী থানার ওসি গতকাল বুধবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

সাদির দাদা রইস মোল্যার ভাষ্য, তাঁর স্ত্রী নাতিকে গোসল করিয়ে ওর মায়ের কাছে ঘুম পাড়িয়ে ডোবরায় মেয়ের বাড়িতে যান। বেলা ১১টার দিকে তিনি (রইস) কাজ শেষ করে বাড়িতে ফিরে ছেলের স্ত্রীকে ডাকাডাকি করেন। সাড়াশব্দ না পেয়ে ঘরে গিয়ে দেখেন ছেলের স্ত্রীর পাশে নাতি নেই। ছেলের স্ত্রী ছিলেন অনেকটা অচেতনের মতো। পরে ছেলের স্ত্রীর কানে পানের বোঁটা দিয়ে খোঁচা মারলে তিনি চিৎকার দিয়ে উঠে বলেন, ‘আমার ছেলেকে কে যেন নিয়ে গেছে।’ বলেই তিনি আবার অচেতন হয়ে পড়েন। তখন পাশের বাড়ির লোকজন নিয়ে চারদিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে টিউবওয়েলের পাশে পানিভর্তি বালতির ভেতরে নাতিকে পাওয়া যায়। তখন তার মাথা নিচে ও পা ওপরের দিকে ছিল।

রইস মোল্যার ভগ্নিপতি লোকমান মৃধা বলেন, কেউ শিশুটিকে বালতিতে ফেলে মেরেছে।

স্থানীয় কয়েকজনের ভাষ্য, বালতির ভেতরে গেঞ্জি, কাঁথা ও ছোট কম্বল দিয়ে প্যাঁচানো অবস্থায় ছিল শিশুটি। এমন মৃত্যু নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নানা গুঞ্জন ভেসে বেড়াচ্ছে এলাকায়। সবার প্রশ্ন, যে শিশু হাঁটতে পারে না, উপুড় হতে পারে না– তার এমন মৃত্যু হলো কীভাবে। বসতঘর থেকে বেশ দূরে টিউবওয়েলের পাশে বালতিতে শিশুটি কীভাবে গেল, তাকে হত্যার কারণইবা কী?
ঘোষপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম। ঘটনাটি শুনেছেন। তিনি বললেন, ‘শিশুটির দাদা ফোন করে আমাকে জানায় তাঁর নাতি মারা গেছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে বিস্তারিত শোনার পর বিষয়টি মেলাতে পারছি না। কেউ তাকে মেরে ফেলেছে। কিন্তু সঠিকভাবে মৃত্যুর কথা বলতে পারছে না।’

বোয়ালমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শেখ সাদিক জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি। অন্য সূত্রে জানতে পেরে তিনি ও মধুখালী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে নানাভাবে তদন্ত করেছেন। সবার সঙ্গে কথা বলেছেন। পরিবারের লোকজন এ বিষয়ে কোনো আইনি সহায়তা চান না। শিশুর মা সাদিয়াও কোনো কথা বলছেন না। তবে এটা হত্যাকাণ্ড হতে পারে। তদন্ত চলছে। হত্যাকারী পার পাবে না।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category