1. almoazzintv@gmail.com : Moniruzzaman Monnu : Moniruzzaman Monnu
  2. jmitsolution24@gmail.com : support :
বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:০৮ পূর্বাহ্ন

মধুখালীতে কলেজ খোলা, কিন্তু শিক্ষক শূন্য শ্রেণিকক্ষ! মেগচামী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ক্ষোভ, কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি ইউএনও’র

মানিক শিকদার
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর, ২০২৬
  • ২২ Time View
29

​ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে প্রশাসনিক বিশৃঙ্খলা ও দায়িত্বহীনতা চরম আকার ধারণ করেছে। ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটি থেকে অংশ নেওয়া চারজন পরীক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। পরপর দুই বছর শতভাগ ফেল করার এমন লজ্জাজনক ফলাফলের পরও দেখা গেছে কলেজটির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের চরম অনীহা ও অনুপস্থিতি।

​সোমবার (২ নভেম্বর) নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী কলেজ খোলা থাকা সত্ত্বেও মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজে গিয়ে দেখা যায় এক নজিরবিহীন দৃশ্য। সরেজমিনে কলেজ শাখায় কোনো শিক্ষক কিংবা শিক্ষার্থী—কাউকেই উপস্থিত পাওয়া যায়নি। গোটা কলেজ শাখা ছিল সম্পূর্ণ ফাঁকা ও বন্ধের মতো নিস্তব্ধ।

​প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, বর্তমানে মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম বর্ষে ২২ জন এবং দ্বিতীয় বর্ষে ২৮ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত রয়েছে। আর তাদের পাঠদানের জন্য কর্মরত রয়েছেন ৯ জন শিক্ষক। কিন্তু পরপর দুই বছর (২০২৫ ও ২০২৬) এইচএসসি পরীক্ষায় শতভাগ ফেলের পর পাঠদানে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা তো দূরের কথা, শিক্ষকরা কলেজে আসাটাই বন্ধ করে দিয়েছেন।

​এ বিষয়ে মেগচামী আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম মৃধা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “কলেজ শাখার সার্বিক দায়িত্বে রয়েছেন হিসাববিজ্ঞানের প্রভাষক মনিরুল ইসলাম। তাঁর তত্ত্বাবধানেই কলেজটি পরিচালিত হয়। আমি বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকরা সঠিক সময়ে আসেন না, এমনকি অনেকদিন কোনো শিক্ষকই কলেজে উপস্থিত থাকেন না। এই দায়িত্বহীনতার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”

​কলেজ ফাঁকা ও কার্যক্রম বন্ধ থাকার কারণ জানতে প্রভাষক মনিরুল ইসলামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করেন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও কলেজ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি নামমাত্র দায়িত্বে আছি। মনে করেন কলেজ বন্ধ।”

​পরপর দু’বছর ফলাফলে এমন করুণ পরিণতি এবং শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের লাগাতার অনুপস্থিতির পর কলেজের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

​এ বিষয়ে বিষয়ে মধুখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাসুদুর রহমান-এর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি নিশ্চিত করেন যে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে কলেজ বন্ধ নয়। কলেজ চলাকালীন সময়ে কোনো শিক্ষক উপস্থিত না থাকার বিষয়টি শুনে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং কঠোর হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকারী নিয়ম অনুযায়ী কলেজ চলাকালীন সময়ে যদি কোনো শিক্ষক অনুপস্থিত থাকেন, তবে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিষয়টি দ্রুত তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category